logo

টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ/মারধরের মুখে আটক যুবকের আকুতি, ‘আমি বিএনপি করি ভাই’

মারধরের মুখে আটক যুবকের আকুতি, ‘আমি বিএনপি করি ভাই’
ঘটনাস্থল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আটকের পর মারধর করে শাহবাগ থানায় নেওয়ার সময় এক যুবক নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি করি ভাই।’

এ সময় নিজের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানান তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ভিসি চত্বর, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, জগন্নাথ হল, সিনেট ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ৭-৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের বিজয় একাত্তর হল শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর কয়েকজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখে ধাওয়া করেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় টিএসসি-সংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে দুজনকে এবং পরে জগন্নাথ হলের সামনে থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।

আটকের পর উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন তাদের মারধর করেন। এ সময় আটক এক যুবক বারবার নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আমি বিএনপি করি ভাই।’

নিজের পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করতে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। তবে পরে তিনজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকরা হলেন নাটোরের রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর সোহেল রানা (৩৩) এবং গোপালগঞ্জের নাজমুস সাদ (৩৩)।

এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা এসব চোরাগোপ্তা ককটেল হামলা চালিয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন জানান, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটকদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, আটক তিনজনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নূর মামুন

সম্পাদনা

নূর মামুন

জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক | এশিয়া পোস্ট