টেলিগ্রামে চাকরির ফাঁদ, ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

টেলিগ্রামে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভনে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া এলাকার মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) এবং করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর এলাকার প্রহড় (২৮)।
এসপি ছুফি উল্লাহ জানান, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট মামলার বাদী মেহেদি হক নিয়নকে (৪৯) টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ‘Zales’ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয় প্রতারক চক্রটি। চাকরিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়।
প্রথমে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা বলে বাদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, অর্ডার সম্পন্নের পর বাদীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার টাকা দেখানো হলেও তা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা জমা দিতে বলা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন নিয়ন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে। তদন্তে এরই মধ্যে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসপি ছুফি উল্লাহ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের সদরে অভিযান চালিয়ে জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমগঞ্জ থেকে প্রহড়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


