বোটানিক্যাল গার্ডেনে ২০ টাকার পানি ৩০ টাকা, জরিমানা

রাজধানীর বোটানিক্যাল গার্ডেনে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বোতলজাত পানি, আইসক্রিম ও চিপসের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ছদ্মবেশে পণ্য কিনে অভিযোগের সত্যতা পান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে চ্যামেলিয়া ক্যান্টিনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তারা।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যান্টিনটিতে ২০ টাকার বোতলজাত পানি ৩০ টাকা, ৩৫ টাকার আইসক্রিম ৫০ টাকা এবং ২০ টাকার চিপস ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এভাবে পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরোজা আক্তারের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা বোটানিক্যাল গার্ডেনে অভিযান চালান। অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তারা ছদ্মবেশে ক্যান্টিনটি থেকে পানি, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন পণ্য কেনেন। এ সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পান তারা।
অভিযান শেষে চ্যামেলিয়া ক্যান্টিনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ধরনের অনিয়ম আবারও করলে ক্যান্টিনটির ইজারা বাতিলের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চ্যামেলিয়া ক্যান্টিনের মালিক মুহাম্মদ রাসেল বলেন, আয়কর ও ভ্যাটের খরচ বেশি হওয়ায় তাকে পণ্যের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ টাকা যোগ করতে হয়। তা না হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাসেল বলেন, এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। এরই মধ্যে ছয় মাস চলে গেছে। এই ছয় মাস পর আর এই দোকান চালাব না।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান বলেন, আয়কর ও ভ্যাটের খরচের কথা বলে পণ্যের মোড়কে উল্লেখ করা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। ব্যবসায়িক ব্যয় বেশি হলেও তা ক্রেতার কাছ থেকে আইনবহির্ভূতভাবে আদায় করা যায় না।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরোজা আক্তার জানান, পণ্যের মোড়কে উল্লেখ করা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোথাও এ ধরনের অনিয়মের শিকার হলে ভোক্তারা অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
