logo

পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের গণসমাবেশ 

পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের গণসমাবেশ 

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) গ্রামীণফোনের মালিকানা প্রতিষ্ঠান নরওয়েভিত্তিক টেলিনরের গ্রুপ সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার। এমন প্রেক্ষাপটে পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোন কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ করেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মীরা। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর কুড়িলে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই গণসমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়। 

সাবেক কর্মীদের ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার সহস্রাধিক সাবেক বঞ্চিত কর্মীরা জিপি হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে এই গণসমাবেশ পালন করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চার হাজার শ্রমিক পরিবারের পাওনা এবং ৫ শতাংশ বিলম্ব জরিমানা পরিশোধে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টেলিনর সিইও তার সফরে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও ‘শ্রম মান উন্নয়ন’ নিয়ে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, গত ১৫ বছরের বাস্তবতায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো গত ১৭ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পরও চার হাজার পরিবারের পাওনা পরিশোধে কোম্পানিটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আগ্রহ দেখায়নি। গ্রামীণফোনের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এই অবস্থান ‘দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ’ এবং বৈশ্বিক নৈতিকতার পরিপন্থি।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় কোম্পানিটি প্রথাগত প্রভাবের রাজনীতি ব্যবহার করে শ্রমিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে। বিচারিক দীর্ঘসূত্রতাকে  অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কর্মীদের প্রতিকার পাওয়ার পথ সুপরিকল্পিতভাবে রুদ্ধ করা হয়েছে। পাওনা আদায়ের অপেক্ষায় থেকে ইতোমধ্যে অনেক সহকর্মী অর্থাভাবে ও সুচিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন—যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

পরিষদের আহ্বায়ক আবু শাদাত মো. শোয়েব বলেন, টেলিনর সিইও সম্প্রতি ঢাকায় উন্নয়নের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে যখন চার হাজার পরিবারের বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা দেখালেও জিপি ম্যানেজমেন্ট আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করেছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার টেলিনরকে তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে এই সংকট নিরসনে বাধ্য করুক।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আদিবা জেরিন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, টেলিনরের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি তখনই সার্থক হবে যখন প্রতিষ্ঠানটি তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের অমীমাংসিত শ্রমিক বিরোধের অবসান ঘটাবে। চার হাজার পরিবারের আইনানুগ পাওনা আটকে রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকৃত টেকসই উন্নয়নে পৌঁছাতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে এই নতুন বাংলাদেশে অতীতের সেই প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি শ্রমিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে আমরা আপনার সদয় ও জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।