দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস হবে না: আব্দুস সালাম

দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর অঞ্চল–৩ এর শহিদনগর শ্মশানঘাটে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুস সালাম বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ১০০ টাকার কাজ ১০০ টাকাতেই করতে হবে। কেউ নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নিলে তার টেন্ডার বাতিল করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে যা যা করা দরকার, সবই করা হবে। তিনি এলাকার উন্নয়নে অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রশাসক জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তাকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ভবিষ্যতে জনগণ যদি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা থাকবে না।
আব্দুস সালাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন—কোথায় মশা বেড়েছে, কোথায় কমেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম আসছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, কারণ অনেক খাল–বিল ভরাট হয়ে গেছে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এদিকে যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি।
অর্থ ব্যয়ের অনিয়মের প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের তহবিল প্রায় শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। এ মাসে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থও নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় অন্য ফান্ড থেকে অর্থ এনে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অগ্রিম ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। এমন একটি পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনকে রেখে যাওয়া হয়েছে। তারপরও ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা হবে না, যদি আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। পুরান ঢাকা আমাদের আদি ঢাকা। আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে পুরান ঢাকাই সবচেয়ে উন্নত হোক। এখানে রাস্তার লাইট ঠিকমতো জ্বলবে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
এ ছাড়া এক মাসব্যাপী প্রোগ্রাম পরিচালনার ঘোষণা দিয়ে এই প্রশাসক বলেন, প্রত্যেক এলাকায় দলের প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হবে, যারা দেখবেন ড্রেন পরিষ্কার হয়েছে কি না, আবর্জনা অপসারণ হয়েছে কি না এবং মশক নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে চলছে কি না।
বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এলে ঢাকা দেখেই দেশের অবস্থা বোঝা যায়। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির কথা বলেছেন। এ লক্ষ্যে গাছ লাগানো ও শহর পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও ব্যবসা নেই, কারও ঘরবাড়ি নেই, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ ছাড়া তিনি কবরস্থান ও শ্মশানে ডিএসসিসির রেজিস্ট্রেশন ফি ১ হাজার টাকা থেকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেন।
পরে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।