সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ মুহূর্তেও রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিরতে হাজারো মানুষ ঘাটে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ভোগান্তির চিত্রও দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আজ সকাল থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বাড়িফেরা মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের দিকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, ভোলা, ইলিশা, আমতলী, চাঁদপুর, হাতিয়া, লালমোহন ও মুলাদী রুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদীবন্দর সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৫৬টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৭৪টি লঞ্চ ঘাটে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া যাত্রীর চাপ ও ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে আরও ৭০ থেকে ৮০টির বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সদস্য আবুল কালাম বলেন, ঈদের আগের দিনও যাত্রীর যথেষ্ট চাপ আছে। তবে গতকালের চেয়ে আজ ভিড় কিছুটা কম মনে হচ্ছে। অবশ্য সন্ধ্যার পর এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছি।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা জানান, ঘাট ও লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সতর্কতা সংকেত ও যথাযথ নিয়ম মেনে লঞ্চ চলাচলের জন্য সব চালক ও কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এবার সদরঘাটে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার, মালামাল বহনে ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকা হকারমুক্ত রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
