logo
Advertisement

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি: ডিবি সূত্রে পাওয়া

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া (৪৪) হত্যা মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানা পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কুমিল্লার তিতাস থানার বারকোনিয়া গ্রামের মো. মনির হোসেন (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার নয়নপুর চারাইল গ্রামের মো. রমজান ওরফে বুলেট (২২), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার রায়চরা গ্রামের মো. আশিক (২২), কুমিল্লার হোমনা থানার শ্রীমদি এলাকার মো. রাসেল (২৪) এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার শ্রীরাম কাঠি (খানবাড়ী) এলাকার মো. সাব্বির খান (২৩)। তারা সবাই বাড্ডা এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মতিঝিল বিভাগের পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানাধীন মানকোন ইউনিয়নের বাদেমাঝিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ডিএমপির বাড্ডা এলাকার মেরুল বাড্ডায় ডিবি, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ ও খিলগাঁও জোনাল টিমের সহায়তায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ জানায়, এর আগে এ মামলায় গ্রেপ্তার মো. আব্দুল্লাহ ও করিমকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নিহতের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর জজ মিয়া বাসা থেকে বের হন। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে তিনি বাড্ডার মেরুল বাড্ডায় মতি বাবুর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আব্দুল্লাহ, করিম, মনির হোসেন, রমজান ওরফে বুলেট, আশিক, রাসেল, সাব্বির খানসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে জজ মিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহ খিলগাঁও থানাধীন ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানী খালে ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় নিহত জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এফআইআর নম্বর ২১; তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও মতিঝিল বিভাগের পুলিশ জানিয়েছে।