logo
Advertisement

ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা ডিএমপির

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা ডিএমপির
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: ডিএমপি

রাজধানীতে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে জাতীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন ঈদের জামাত এবং ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (২৭ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ঈদ জামাত ও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে পড়বে। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ মুসলিম দেশগুলোর কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য ঈদগাহে পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি পুরুষ ও একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড (কে-৯) দিয়ে তল্লাশি করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

ঈদগাহের প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড বসানো হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশ গেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার ও জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা মালামালের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের জন্য জাতীয় ঈদগাহে পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুমে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য ঈদগাহেও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আয়োজক কমিটির সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

মুসল্লিদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করা, নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করা এবং ট্রাফিক ডাইভারশন নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, জায়নামাজ ও প্রয়োজনে ছাতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সঙ্গে না আনাই ভালো। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তায় মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।