অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে মাসে পাচার ২৫০ কোটি, গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ গেটওয়ে পরিচালনার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ৬ হাজারের বেশি সিম, ২০টি গেটওয়ে মেশিন, ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবির দাবি, চক্রটি একটি অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তাদের ব্যবহৃত গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হত।
রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। ভবনটি ঝরনা নামে এক বাংলাদেশি আদিবাসী নারীর ভাড়া নেওয়া। তিনি নিচতলায় থাকতেন এবং বাকি পাঁচটি তলা বিভিন্ন সময় চীনা নাগরিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারা হোটেলের মতো অবস্থান করতেন।
অভিযানে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চমতলায় অনলাইন প্রতারণা এবং অবৈধ সিম গেটওয়ে পরিচালনার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সেখান থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, প্রায় ৬ হাজার সিম, বিভিন্ন অপারেটরের ১০ থেকে ১২ হাজার সিম ব্যবহারের সক্ষমতাসম্পন্ন স্লট, ২০টি গেটওয়ে মেশিন, বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, প্রতারকরা মোবাইলে বিভিন্ন অফার, চাকরি কিংবা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এসএমএস পাঠাত। ব্যবহারকারী লিংকে ক্লিক করলেই তাদের ফাঁদে পড়তেন। এরপর গেটওয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার সিম ব্যবহার করে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। একটি মোবাইল ডিভাইস দিয়েই এক সঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনার সক্ষমতা ছিল তাদের।
তিনি আরও বলেন, চক্রটি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তন করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ডিবি তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, এই একটি গেটওয়ের মাধ্যমেই প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। এই চক্রকে গ্রেপ্তারের ফলে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক চীনা নাগরিক ও তাদের প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন লোভনীয় অফারে ক্লিক করার আগে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
