বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার, সোয়া ২ লাখ টাকাসহ ৫০ মোবাইল উদ্ধার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির সদস্য মো. তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তার দেওয়া তথ্যে রাজধানীর মিরপুর থেকে ৫০টি মোবাইল ফোন, দুই লক্ষাধিক টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, হাত ঘড়ি ও বিভিন্ন চেতনানাশক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আরাফাত হোসেন নামে একজন ভুক্তভোগী তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে আসেন। তাকে বিদায় দিয়ে ডিপার্চার এলাকায় তিনি তাজুল ইসলামের কাছ থেকে কফি পান করেন। এরপরই আরাফাত হোসেন অজ্ঞান হয়ে যান।
পরে এপিবিএন অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্য তাজুলকে গ্রেপ্তার করে। তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ভুক্তভোগী আরাফাতের দুটি মোবাইল, কিছু টাকা ও ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার তাজুলের দেওয়া তথ্যে মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, চার পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, দুটি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা ও বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অজ্ঞান করার পদ্ধতি জানান গ্রেপ্তার তাজুল। তার বরাত দিয়ে এএসপি অনিতা রানী বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তাজুল ও তার সহযোগীরা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেন। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করেন, যাতে টার্গেট ব্যক্তি সন্দেহ না করেন।
তিনি বলেন, তাজুলসহ চার/পাঁচজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা অজ্ঞান পার্টির একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছিল। হাতিয়ে নেওয়া এসব মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করতো।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরাফাত বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
