মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন প্রকল্পে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও ভাঙচুর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে দুই দফায় আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় হাউজিংয়ের কর্মীদের মারধর এবং প্রকল্পস্থলে ভাঙচুর চালিয়েছেন অভিযুক্তরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রকল্পের ম্যানেজার মো. কাউসার রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ২ নম্বর প্রধান সড়কের বাসিন্দা ইমরান কাজল (৪০), মো. সামসুদ্দোহা (৪৮), মো. আজানুর রহমান (৪৬), মো. তানভীরসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন।
হাউজিংয়ের ম্যানেজার কাউসার রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি, গত কয়েকদিন আগে কয়েকজন লোক এসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা গত ১৩ তারিখ আবারও এসে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি বলেন, এ সময় তারা কর্মীদের মারধর করে এবং জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়। আমরা থানায় মামলা করেছি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, সেটা আমরা জানি না। পুলিশ তদন্ত করছে, তারা বলতে পারবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিংয়ের ১১ নম্বর সড়কের ৬০-৬২ নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও চেইন নিয়ে আসামিরা অবৈধভাবে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে তারা প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কাউসার রহমানের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা গালাগাল শুরু করেন।
এজাহারে বলা হয়, চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক মোশাররফ (৫৫), উম্মেদ আলী (৩৫), রুবেল (৩২) ও বাদশাকে (৫৩) লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একই সঙ্গে আসামিরা প্রকল্পের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কয়েক দিন পর, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা পুনরায় প্রকল্পে এসে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং নানা হুমকি দেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি আজকেই মামলাটির দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।