র্যাব পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ৩২ লাখ টাকা ও ৯ লাখ থাই বাথ লুট

র্যাব পরিচয় দিয়ে রাজধানীর তুরাগ থানার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ৩২ লাখ টাকা ও প্রায় ৯ লাখ থাই বাথ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওই ব্যবসায়ীকে পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরের নির্জন জায়গায় ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সালমান মাহবুব জয় ডিএমপির তুরাগ থানায় বাদী হয়ে এ বিষয়ে একটি মামলা করেন। তিনি পুরান ঢাকার চকবাজারের বাসিন্দা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় তুরাগ থানায় মামলা হয়েছে। ডাকাত চক্রটিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সালমান মাহবুব জয় চকবাজারের বাসা থেকে একটি সবুজ রঙের অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগে ২৫ লাখ টাকা ও ৮ লাখ ৮৯ হাজার থাই বাথ নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে সৈয়দ সীমান্ত কসমেটিক থেকে পূর্বের পাওনা ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি থাই বাথ বিনিময়ের জন্য মতিঝিল ও পল্টনের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে যান। কিন্তু সুবিধাজনক দর না পেয়ে উত্তরার আরেকটি মানি এক্সচেঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মেট্রোরেলে করে উত্তরার দিয়াবাড়ি স্টেশনে নামেন।
শনিবার বিকেলে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ারে আজমপুরে যাওয়ার উদ্দেশে একটি অটোরিকশায় রওনা হন। ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজের কাছে একটি খেলার মাঠের পাশে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা সাত ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে রিকশাটি থামায়। তারা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে ভুক্তভোগী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন ডাকাতরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে মারধর করে জোরপূর্বক একটি সাদা নোয়া গাড়িতে তোলে।
মামলার বিবরণীতে আরও বলা হয়, গাড়ির ভেতর তোলার পরই তাকে কিল-ঘুষি মেরে জখম করা হয়। হাতকড়া ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে মুখেও কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গাড়িতে থাকা ৮-১০ জন র্যাব পরিচয়ধারী ডাকাত তার কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা, ৮ লাখ ৭৯ হাজার থাই বাথ এবং একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরের নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করেন।