আত্মহত্যা করা প্রেমিকের মরদেহ দেখে নার্সের গলায় ফাঁস

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাথরুম থেকে বারডেম হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তন্ময়ী মণ্ডলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমিককে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তন্ময়ী মণ্ডলের প্রেমিক আকাশ মিত্র রোববার (৪ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জে আত্মহত্যা করেন। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
প্রেমিক আকাশের ময়নাতদন্ত চলাকালে তন্ময়ী ঢামেকের মর্গে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর শোকাভিভূত হয়ে তিনি নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করেন। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থাতেই হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি বাথরুমে প্রবেশ করে ফাঁস দেন।
নিহত তন্ময়ী মণ্ডল ও তার প্রেমিক আকাশ মিত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম এবং শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, আর্থিক সংকট ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন আকাশ মিত্র। রোববার তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া একটি চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পৃথিবী ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু টাকা নেই।’
চিঠিতে তিনি আরও লিখেন, তন্ময়ী তার কাছে টাকা পাবেন, তবে অর্থের পরিমাণ তার জানা নেই। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে, শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমঘটিত বিষয়ের জের ধরে তন্ময়ী মণ্ডল আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।