logo

মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর আসাদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে পূর্বের মারামারি ও আর্থিক লেনদেন। এই দুই কারণে পরিকল্পিতভাবে আসাদুলকে হত্যা করা হয়। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান এসব তথ্য জানান। 

পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রিপনের ওয়ার্কশপের সামনে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। ভিকটিম আসাদুল ওরফে ‘লম্বু আসাদুল’-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তারা ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন আসাদুল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মুন্না (২৪), মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. মিরাজ ফকির (২২) এবং মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পূর্বে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে কিছুদিন আগে আকতার হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন আসাদুল, যা নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে স্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। এছাড়া তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি মামলা, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।