logo
Advertisement

রূপনগরে জাগৃকের প্লট দখল ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ প্লট মালিকরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
রূপনগরে জাগৃকের প্লট দখল ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ প্লট মালিকরা
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্লট মালিকেরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) মালিকানাধীন ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা’ (ব্লক-ক ও খ, সেকশন-৮) প্রকল্পে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন প্লট মালিকরা। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দকৃত প্লট, সরকারি রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে রিকশা গ্যারেজ, বস্তিসহ অবৈধ বিভিন্ন স্থাপনা। চাঁদাবাজদের ভয়ে নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণকাজ পরিচালনা করতে পারছেন না বৈধ মালিকরা।

Advertisement

শনিবার (২২ আগস্ট) ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট/বাড়ি/ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি’-র উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৪ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ৪৭৪টি প্লট তৈরি করে বরাদ্দের অনুমোদন দেয়। তবে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও স্থানীয় দখলদারদের কারণে প্লট মালিকরা শুরু থেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৯ সালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কিছু প্লট বুঝিয়ে দিলেও ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন একটি সন্ত্রাসী ও দখলদার গ্রুপ এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের অভিযোগ করেন, বর্তমানে ক ও খ ব্লকে আধা শতাধিক প্লট চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি রয়েছে। খ-ব্লকের পূর্ব পাশে থাকা ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রিকশা গ্যারেজ ও ঘরবাড়ি বানিয়ে ভাড়া আদায় করছে একটি চক্র। বৈধ মালিকরা নিজেদের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়, অন্যথায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ‘ড্যাফোডিল হোমস্ লিমিটেড’ নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তাদের নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গেলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে হুমকি-ধমকি দেয় এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় থানা পুলিশে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও জিডি করা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টো গত ১৮ জুলাই পুলিশ নিয়ে এসে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্থাপন করা ২২ সদস্যের একটি আনসার ক্যাম্পও সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাম উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এদের মধ্যে বিভিন্ন দলীয় পরিচয়ধারী রাজনৈতিক নেতা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নাম উঠে এসেছে।

অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, আনসার ক্যাম্প পুনর্প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রূপনগর আবাসিক এলাকাকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে কল্যাণ সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আমির আলীসহ সাধারণ প্লট মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।