logo
Advertisement

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সাধনা মহলকে বিচারিক হয়রানির অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সাধনা মহলকে বিচারিক হয়রানির অভিযোগ
সাধনা মহলকে বিচারিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী সাধনা মহলকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা ১১টি মামলায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ২৩ আগস্ট সিএমএম আদালত-১৪ থেকে সাধনা মহলকে ঢাকার বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের আদেশ এবং পরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তারা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

‎‘জুলাইয়ের রক্তে ভেজা আদালত কার—ইনসাফের নাকি গণহত্যাকারী আওয়ামী দোসরদের’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ রাব্বির বোন মীম আক্তার, যাত্রাবাড়ীর শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা মো. আব্দুর রব, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ঢাবি শিক্ষার্থী জ্বালাময়ী জালাল এবং সাধনা মহল।

‎সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও পুলিশ, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পতিত আওয়ামী সরকারের ‘দোসরদের’ প্রভাব এখনও রয়েছে। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‎বক্তারা আরও দাবি করেন, জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতির কাজ এখনও শেষ হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যা, গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখার অভিযোগগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

সাধনা মহল জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন জানিয়ে ‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শহীদদের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে।

‎সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো:

১. আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাধনা মহলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি বা খারিজের উদ্যোগ নেওয়া এবং এ বিষয়ে আইন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি।

‎২. স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে সাধনা মহলের পাসপোর্টের ওপর থাকা ব্লক তুলে নেওয়া এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে পুনরায় ব্লক না করার দাবি।

‎৩. সাধনা মহলের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলাসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক হয়রানি বন্ধে আইনমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি।

‎৪. এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথিত অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ইআরডির মাধ্যমে অনুরোধ জানানোর দাবি।

‎৫. ফ্যাসিস্ট রেজিমে সংঘটিত গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ‘আয়নাঘরে’ বন্দিত্ব, শহীদ হাদী হত্যাসহ জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি।

‎৬. সচিবালয়, আদালত, পুলিশ, গণমাধ্যম ও বিদেশি সংস্থাগুলোকে পতিত আওয়ামী সরকারের কথিত দোসরদের প্রভাবমুক্ত করার দাবি।

‎সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘আমরা জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি—আমরা প্রতিশোধ নয়, ইনসাফ চাই।’