logo

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে নাজেহাল দেশের রাইড শেয়ার চালকরা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে নাজেহাল দেশের রাইড শেয়ার চালকরা

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা, বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হাজারো চালক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার জ্বালানি কেনা যাবে, যা দিয়ে সারাদিন যাত্রী পরিবহন চালানো কঠিন বলে অভিযোগ করছেন চালকরা।

শুক্রবার দুপুর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় সব ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোকে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি সরবরাহ করছে। তবে আপাতত জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

নতুন নির্দেশনায় মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই লিটার অকটেন বা পেট্রোল কিনতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি সর্বোচ্চ ১০ লিটার, এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও স্থানীয় বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার লরি সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।

মাত্র দুই লিটার জ্বালানি নিয়ে সারাদিন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত মোটরসাইকেল চালকরা। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই সীমা তাদের দৈনন্দিন আয়ে বড় ধস নামাবে এবং অনেকের পক্ষেই এই পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা দিনে গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা চালান। দুই লিটার জ্বালানি দিয়ে মোটরসাইকেলে সাধারণত ১০০-১৫০ কিলোমিটার পথ চলা যায়, যা সারাদিনের কাজের তুলনায় অনেক কম।

মোটরসাইকেল চালকেরা বলছেন, দিনে মাত্র দুই লিটার জ্বালানি দিয়ে পুরো দিন যাত্রী পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব এবং নাজেহাল অবস্থা। এতে তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং অনেকের জন্য এই পেশা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত ঠেকাতে এবং সবার জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও যশোরসহ বিভিন্ন শহরেও পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, নির্ধারিত সীমার কারণে তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না, যা তাদের দৈনন্দিন আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।