ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চীনা সংস্কৃতি ও ভাষা নিয়ে ‘চাইনিজ কালচার ডে’
-d7bfb0-720x405.webp)
চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের পরিচয় আরও গভীর করতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চাইনিজ কালচার ডে ২০২৬’। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, তাই চি এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা বাদ্যযন্ত্র গুঝেং পরিবেশনের মাধ্যমে চীনের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কমিউনিকেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও চীনের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাডেমিক সম্পর্কের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের। ১০৪২ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক ও ধর্মগুরু অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের বিশেষ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাস নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ এবং বাংলাদেশের অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করেছে।
অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও চীন একই ধরনের একটি দীর্ঘ যাত্রার অংশ। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করেছে। এ সফরের পর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ, কালচার অ্যান্ড রিসার্চ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতে আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটিতেও বাংলাদেশ কালচার সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে সাতজন নেটিভ এবং পাঁচজন নন-নেটিভ শিক্ষক কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট ক্রেডিট কোর্স এবং আরও প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। চীনের ঐতিহ্যবাহী তাই চি এবং গুঝেং বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনাও ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগের সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মউকং ও থার্ড সেক্রেটারি শিয়া দাওজিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ইয়াং হুই, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব কমিউনিকেশন্সের পরিচালক খায়রুল বাশার।
আয়োজকেরা জানান, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর এই উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে এসডিজি-৪, মানসম্মত শিক্ষা এবং এসডিজি-১৭, লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্বের সঙ্গে এ আয়োজনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।


