logo

ঢাবিতে উদ্যোক্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাবিতে উদ্যোক্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক নীতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাবির ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টার (আইসিই) অর্ধদিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করে।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের উদ্যোক্তা শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হন। অনুষ্ঠানটি ‘ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ প্রজেক্ট’-এর অধীনে আয়োজিত হয়, যা বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ। আইসিই সেন্টার কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছে কোইকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাবির ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ প্রজেক্টের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. অদিতি শামস। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরির জন্য একটি সহায়ক উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

সেমিনারের উভয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও আইসিই সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের উত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ফিনটেক গ্রহণের নীতিমালাগুলোকে অবশ্যই নারী উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

আইসিই সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এবং ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ প্রজেক্টের পরিচালক মো. রাশেদুর রহমান তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম তৈরিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পরিবর্তন আনার এবং পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ও সুযোগ উভয়ই রাখে। আমাদের লক্ষ্য শুধু চাকরির জন্য স্নাতক তৈরি করা নয়, বরং এমন স্নাতক তৈরি করা, যারা নিজের এবং অন্যদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

তিনি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্যোক্তা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা উন্নয়নের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আরও একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন কোইকার পিএমসি, কেপিসি এবং টিইউকে কনসোর্টিয়ামের প্রজেক্ট ম্যানেজার দে জিন ডেরিক কিম।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোইকা বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনসু কিম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহার। তারা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম শুধু তৈরি করলেই হবে না, বরং প্রকল্পের ফলাফলগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে তা টেকসই করতে হবে।

সেমিনারের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ফিনটেক ২০২৬-ডিসরাপশন থেকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক একটি বিশেষ থিম্যাটিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুয়াং হি ওন। সেশনে বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং ফিনটেক কীভাবে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়ক হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ প্রজেক্টের লক্ষ্য হলো, কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইনকিউবেশন সহায়তা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তা শিক্ষাকে শক্তিশালী করা। এই প্রকল্পের সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।