logo

১৪তম বর্ষে পদার্পণ করল এসবিএসি ব্যাংক

১৪তম বর্ষে পদার্পণ করল এসবিএসি ব্যাংক

আর্থিক সূচকে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ, মূলধন, মোট সম্পদ ইত্যাদি সূচকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকের মুনাফাও দেশের বিরাজমান অর্থনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ধারাবাহিক সাফল্য বিরাজ করায় ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হারও পর্যাপ্ত। আগ্রাসী বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। খেলাপি ঋণের হারও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। 

বুধবার (১ এপ্রিল) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির ১৪তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এক মিট দ্য প্রেসে এসব জানানো হয়। এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এসএম মঈনুল কবীরের সভাপতিত্বে মিট দ্য প্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান। এ সময়ে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভুঁইয়াসহ ব্যাংকের বিভাগীয় প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিট দ্য প্রেসে বক্তারা জানান, ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ নামে প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু হয়। গ্রাহক আস্থা ও ভালোবাসায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বর্তমানে ব্যাংকটি ‘এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি’ নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ব্যাংকটি ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট এবং ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা প্রদান করছে। প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ব্যাংকটির ১০টি শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং পরিসেবাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যে অফশোর ব্যাংকিংয়েও গ্রাহকদের অর্থায়ন করছে ব্যাংকটি। এসবিএসি ব্যাংক দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি।    

বক্তারা জানান, বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার কোটি টাকা টাকা দাঁড়িয়েছে এবং ঋণ ও অগ্রিম ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এতে ব্যাংকের ঋণ-আমানতের অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশে ঠেকেছে, যা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেধে দেওয়া সীমা ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ এসবিএসি ব্যাংক আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণে মোটেও আগ্রাসী নয়। এসময়ে ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ অনুসারে প্রয়োজনের চেয়েও উদ্বৃত্ত মূলধন থাকায় মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ। যা ব্যাংকটির শক্তিশালী আর্থিক ভিত প্রমাণ করে।      

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, আমানতকারীরা আমাদের কাছে নিরাপদ রয়েছেন। গ্রাহক সেবার জন্য যা যা করার দরকার তা আমাদের বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। দেশের প্রতি ও গ্রাহকদের প্রতি আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ব্যাংকের মূল ব্যবসাই হলো আস্থার সঙ্গে সেবা দেওয়া। এই আস্থা তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিনের নৈতিক চর্চা এবং উচ্চমানের মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে। আমাদের বোর্ডে ও ম্যানেজমেন্টে দক্ষ ব্যক্তিরা রয়েছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে আস্থা এমন একটি জিনিস যা, তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল নিজেদের সাফল্য নয়, বরং দেশের সাফল্য; তাই আমরা কৃষি এবং খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। একইসঙ্গে যারা বিদেশে কাজ করতে চায় তাদের জন্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস এবং আমাদের দেশের যে বিশাল তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।

এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এসএম মঈনুল কবীর বলেন, আমরা গ্রাহকের প্রয়োজনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। আমরা তারল্য পরিস্থিতি ভালো থাকায় কোনো পরিশোধে আমাদের বেগ পেতে হয়নি। আমাদের কোনো সূচক ব্যাপক ওঠানামা করে না। যার ফলশ্রুতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব রেগুলেটরি ইস্যু করে যার মধ্যে থাকতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এজন্য মূলধন বা প্রভিশন ঘাটতিসহ ইত্যাদি সমস্যায় আমাদের পড়তে হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (সিএসএমই) সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছি। এসবিএসি ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ৩৬ শতাংশ বিনিয়োগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে। বৃহৎ শিল্প ও মেয়াদি ঋণ বিতরণের পাশাপাশি নন-ফান্ডেড কমিশনভিত্তিক বৈদেশিক বাণিজ্যেও ব্যাংকটির প্রসার ঘটছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রহণ এবং অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম যত্নের সঙ্গে পরিচালনা করায় ব্যাংকটি দেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।