logo

শ্রীমঙ্গলে প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতা সভা, ক্রাশার মেশিন হস্তান্তর

শ্রীমঙ্গলে প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতা সভা, ক্রাশার মেশিন হস্তান্তর
ছবি: বিজ্ঞপ্তি থেকে নেওয়া

পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক দূষণ কমানো, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর পর্যটন এলাকায় আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাধানগর রিসোর্ট মালিক সমিতির কাছে একটি প্লাস্টিক ক্রাশার মেশিন হস্তান্তর করা হয়।

শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্টে আয়োজিত এ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) কারিগরি সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশস্থ রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এতে রাধানগর রিসোর্ট মালিক সমিতির প্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। আলোচনা সভা, ক্রাশার মেশিন হস্তান্তর, সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক অংশীজন অংশগ্রহণ করে।

আলোচনা সভায় প্রকল্পের পরিচিতি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিডোর প্রতিনিধি। তিনি ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্প সম্পর্কে বর্ণনা করেন। রাধানগর রিসোর্ট মালিক সমিতির পক্ষে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানভীর লিংকন, সাধারণ সম্পাদক তারেকুর রহমান পাপ্পু, সভাপতি কুমকুম হাবিবা, উপদেষ্টা সজল কুমার দাস ও মোজাহিদ আহমেদ রেজু। এবং বিডি ক্লিন সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক মোজাহিদ আহমেদ রেজু বক্তব্য দেন।

আলোচকরা পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, বর্জ্য উৎপত্তিস্থলে পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ যথাযথভাবে সংগ্রহ এবং রিসোর্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। এর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ চা-বাগান, সবুজ বনভূমি ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, কাপ, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্লাস্টিকের টেকসই ব্যবহার, উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, সঠিকভাবে সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভা শেষে রাধানগর রিসোর্ট মালিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্লাস্টিক ক্রাশার যন্ত্র হস্তান্তর করা হয় যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এসব যন্ত্রের নিরাপদ ও নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের যথাযথ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে জানানো হয়।

তাছাড়া আলোচনা সভা শেষে রাধানগর পর্যটন এলাকার জেরিন রোড এলাকায় স্থানে বিডি ক্লিনের সদস্যদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখান থেকে প্রায় ৯৭০.৮ কেজি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য তথা পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, জুসের প্যাকেট, আইসক্রিমের মোড়ক সংগ্রহ করা হয়। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউনিডো, স্থানীয় প্রশাসন, বিডি ক্লিন, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য অংশীজনেরা পর্যটন এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।