ইস্ট বেকারের বৈজ্ঞানিক মান যাচাই, সন্তোষজনক ফলাফল

ইস্ট বেকার ব্রেডের মান ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা ও উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করেছে ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেটসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স ভ্যালু বা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোক্তার নিরাপত্তা, পণ্যের মান ও গুণগত নিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে ইস্ট বেকার ব্রেডের নমুনা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর), ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএফএসটি) এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেটসহ পরীক্ষিত বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স ভ্যালু বা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
বিশেষভাবে, বিএসটিআইয়ে পরীক্ষিত ইস্ট বেকার ব্রেডের একটি নমুনায় ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৫৩ মিলিগ্রাম/কেজি। সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স লিমিট ছিল সর্বোচ্চ ৫ মিলিগ্রাম/কেজি।
এ ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষায়ও পণ্যের বিভিন্ন গুণগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্যারামিটার নির্ধারিত রেফারেন্স ভ্যালুর মধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় পটাশিয়াম ব্রোমেট শনাক্ত হয়নি।
৩০ দিনের শেলফ-লাইফ স্টাডি
পণ্যের সংরক্ষণকাল ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিসিএসআইআরের ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ৩০ দিনের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল শেল্ফ-লাইফ স্টাডি পরিচালনা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডে-১, ডে-৭, ডে-১৪, ডে-২১ ও ডে-৩০—প্রতিটি পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি পর্যায়ের ফলাফল ‘অ্যাকসেপ্টেবল’ এবং পরীক্ষিত পুরো সময়জুড়ে সালমোনেলা এসপিপি ‘অ্যাবসেন্ট’ পাওয়া গেছে।
ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তার আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের মান যাচাই। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্টগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ইস্ট বেকার ব্রেডের মান নিয়ে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আমরা সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। তাই বিভিন্ন স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেটসহ পরীক্ষিত বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স ভ্যালুর মধ্যে পাওয়া গেছে। আমরা চাই, কোনো ধরনের অনুমান বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভোক্তারা ইস্ট বেকার ব্রেড সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিন।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তার আস্থা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা ভবিষ্যতেও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণগত মান আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইস্ট বেকার ব্রেডের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে ভোক্তা, পরিবেশক, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড।


