আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা দিল উত্তরা ইউনিভার্সিটি

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে ‘স্মরণে জুলাই ২৪’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আহত শিক্ষার্থীদের ত্যাগ ও বীরত্বকে স্মরণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ইনস্টিটিউশনাল র্যাংকিং সেলের (আইআরসি) পরিচালক শেখ ইয়াসা শান।
পরে স্বাগত বক্তব্য দেন অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের (ওএসএ) পরিচালক ড. শাহ আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আহত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রেকর্ড করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা যেমন বিগত দিনগুলোতে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তেমনি আগামী দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, উন্নত বাংলাদেশ ও জনবান্ধব দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘লেখা আছে অশ্রুজলে’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। পরে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট, উপহার এবং স্মারক গ্রন্থের কপি তুলে দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, ‘শিক্ষার প্রকৃত আলোই একজন মানুষকে সত্য প্রকাশের শক্তি দেয়। ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই একজন সচেতন শিক্ষার্থীর পরিচয়। তাই মাতৃভূমির প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে দেশ গঠনে তোমাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. শাহাবুদ্দিন স্মারক তালিকা প্রণয়নের পদ্ধতি ও রূপরেখা তুলে ধরেন।
এরপর জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত কয়েকটি মাইক্রো-ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনী শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময়কার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মির্জা গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তরা ইউনিভার্সিটি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং যাঁদের আত্মত্যাগ জাতিকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
.png)


