দক্ষিণ এশিয়ার সেরা জেনারেল ম্যানেজার বাংলাদেশের আলমগীর হোসেন
-383f50-720x405.webp)
ওয়েটার হিসেবে হোটেলে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। অতিথিদের সেবা দিতে দিতে পেরিয়ে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। সেই দীর্ঘ পথচলায় অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা জেনারেল ম্যানেজারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসেন।
শেল্টেক্-এর প্ল্যাটিনাম হোটেলসের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার আলমগীর হোসেন সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস (স্যাটা) ২০২৬-এ দক্ষিণ এশিয়ার সেরা জেনারেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়েছেন। আয়োজকদের দেওয়া এ সম্মাননা অর্জনকারী প্রথম বাংলাদেশি তিনি। ৮ অক্টোবর মালদ্বীপের রাজধানী মালের বার্সেলো নাসানধুরা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয়।
এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একই অনুষ্ঠানে প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্স বাই শেল্টেক্ ৪০ কক্ষের কম ধারণক্ষমতার হোটেল বিভাগে লিডিং সিটি হোটেল পুরস্কার অর্জন করেছে।
ওয়েটার থেকে গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার
আলমগীর হোসেনের পেশাগত জীবনের শুরু রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত তৎকালীন হোটেল শেরাটনে ওয়েটার হিসেবে। অতিথিদের সেবা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তার কর্মজীবন এখন হোটেল ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আতিথেয়তা খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ২২ বছরের বেশি।
দীর্ঘ এই সময়ে তিনি অতিথিসেবা, বিক্রয় ও বিপণনসহ হোটেল পরিচালনার বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে হোটেল ব্যবস্থাপনার নানা দিক সম্পর্কে দক্ষ করে তুলেছে।
২০১৭ সালে প্ল্যাটিনাম হোটেলসে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও পরিচালন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। বর্তমানে বনানীর প্ল্যাটিনাম গ্র্যান্ড এবং উত্তরার প্ল্যাটিনাম রেসিডেন্সের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।
অতিথিসেবার মান উন্নয়ন, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, চীন ও শ্রীলঙ্কায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের জন্য স্বীকৃতি
আলমগীর হোসেনের এই অর্জন তার দীর্ঘ পেশাগত যাত্রার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি সুযোগও তৈরি করেছে।
ওয়েটার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের অন্যতম স্বীকৃতি অর্জনের এই যাত্রা নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের জন্যও অনুপ্রেরণার হতে পারে। তার এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেল ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও দৃশ্যমান হলো।