logo

নর্দান ইউনিভার্সিটির নবীনবরণে বক্তারা/‘উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে’

‘উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে’
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এনইউবি) ‘নবীনবরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন নর্দান এডুকেশন গ্রুপ ও প্রাসাদ গ্রুপ অব কোম্পানিজের সিইও এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দ আলমগীর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানসহ অন্য অতিথিবৃন্দ। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল ডিগ্রি অর্জনের সময় নয়, বরং নিজেকে দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রচলিত চাকরিনির্ভর চিন্তা থেকে বেরিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি এবং কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দলগত কাজের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এনইউবি) ‘নবীনবরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানের বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আশকোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোর্টইয়ার্ড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকালে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, কর্মমুখী দক্ষতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নর্দান এডুকেশন গ্রুপ ও প্রাসাদ গ্রুপ অব কোম্পানিজের সিইও সৈয়দ আলমগীর। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। জীবনে সফলতার জন্য ভাগ্য কিংবা স্বীকৃতির চেয়ে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দলগত প্রচেষ্টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল, সততা ও অধ্যবসায়ের মতো গুণাবলি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সৈয়দ আলমগীর বলেন, শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে হবে এবং অজানা বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে প্রশ্ন করে তা বুঝে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যেন কেবল ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব জীবনে তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা তৈরি করে—সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজ থেকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়ের সঙ্গে নর্দান ইউনিভার্সিটির নাম যুক্ত হলো। তাই সততা ও একতা বজায় রাখার পাশাপাশি বাবা-মায়ের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। স্নাতক শেষ করে শুধু প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধান অতিথি। এ প্রসঙ্গে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি চার বছরের স্নাতক শিক্ষাকে ‘২+২ মডেলে’ সাজানোর পরামর্শ দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি পরবর্তী দুই বছর কর্মক্ষেত্রভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটিকে বেছে নেওয়া তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, নিজেকে গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম সেরা জায়গা। শিক্ষার্থীদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কেবল বয়সে বাড়বেন নাকি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলে দেশ ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন।

রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের দর্শন তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, সবাই বিশ্বকে পরিবর্তনের কথা ভাবলেও নিজেকে পরিবর্তনের কথা খুব কম মানুষই ভাবেন। তাই অন্যকে বদলানোর আগে নিজেকে পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং প্রত্যেককে যথাযথ সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, বাস্তব দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি।