logo
Advertisement

খাদ্যের ব্যয় সাশ্রয়ে ‘সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট’র কপিরাইট নিবন্ধন পেলেন মো. শাখাওয়াত হোসেন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
খাদ্যের ব্যয় সাশ্রয়ে ‘সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট’র কপিরাইট নিবন্ধন পেলেন মো. শাখাওয়াত হোসেন
মো. শাখাওয়াত হোসেন। ছবি: আমাদের সময়

ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির (দ্য ওয়েস্টিন, শেরাটন ঢাকা ও হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্সের মালিকানাধীন) সিইও মো. শাখাওয়াত হোসেন তার মেধাস্বত্বভিত্তিক কাজ “শাখাওয়াত’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ফর ফুড কস্ট অপটিমাইজেশন”র জন্য বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে ‘কপিরাইট নিবন্ধন’ পেয়েছেন।

২৫ বছরেরও বেশি সময়ের বিস্তৃত আতিথেয়তা পরিচালনা-অভিজ্ঞতা থেকে মো. শাখাওয়াত হোসেনের উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করা এ কাঠামোটি খাদ্য খরচ ব্যবস্থাপনায় একটি বাস্তবভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য পদ্ধতি উপস্থাপন করে। এটি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দেয়। ক্রয় নিয়ন্ত্রণ, মজুত নিয়ন্ত্রণ, সঠিক স্থানান্তর, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, উপযুক্ত রান্না এবং অপচয় নিয়ন্ত্রণ।

এ কাঠামোটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে কেনা, রিসিভিং, সংগ্রহ, খরচ নিয়ন্ত্রণ, ফাইন্যান্স, কালিনারি এবং ফুড অ্যাড বেভারেজ সার্ভিস বিভাগগুলোকে একত্রিত করে। ২০২৩ সাল থেকে এটি দ্য ওয়েস্টিন, শেরাটন ঢাকা ও হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্সে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। এর ব্যবহারের ফলে খাদ্য খরচ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনটি হোটেলে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ কোটি টাকা খাদ্য খরচ সাশ্রয়ে অবদান রেখেছে। তিনটি হোটেলের নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট টিমের সদস্যরা এর বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যার ফলে খাদ্য খরচ নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে পরিমাপযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ আতিথেয়তা পেশাজীবীদের ব্যবহারিক খাদ্য খরচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শেখানো এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার লক্ষ্যে এটি অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মে চালু করার পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

এ কাঠামোটি টেকসই ব্যবস্থাপনাকেও সমর্থন করে। এটি হোটেলগুলোকে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী ক্রয় করতে, মজুত ব্যবস্থাপনা করতে, খাবারের পরিমাণের ভারসাম্য বজায় রাখতে, সঠিক রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করতে এবং খাদ্য অপচয় কমাতে সহায়তা করে। খাদ্যের মান, সেবার মানদণ্ড এবং অতিথিদের সন্তুষ্টি বজায় রাখার পাশাপাশি এটি দীর্ঘমেয়াদি খরচ সাশ্রয়েও সহায়তা করে।

এ বিষয়ে মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই কপিরাইট স্বীকৃতি সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা এখন বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের সব ক্ষেত্রে এটিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্যও কাজ করছি। যেন ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী এর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়।’

কপিরাইট নিবন্ধনটি সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ফর ফুড কস্ট অপটিমাইজেশনের উদ্ভাবনকে মো. শাখাওয়াত হোসেনের মৌলিক কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আতিথেয়তা ও শিক্ষা খাতে এর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।