আরই১০০-এ বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির গ্রুপ

১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বৈশ্বিক করপোরেট উদ্যোগ আরই১০০-তে যোগ দিয়ে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে আকিজ বশির গ্রুপ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রুপটির চলমান সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সাশ্রয় এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বৈশ্বিক করপোরেটভিত্তিক নবায়নযোগ্য শক্তির উদ্যোগ আরই১০০-তে যোগ দিয়েছে আকিজ বশির গ্রুপ। এ উদ্যোগ পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ক্লাইমেট গ্রুপ। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর বেগবান করতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের সঙ্গে কাজ করে আসছে সংস্থাটি।
আরই১০০-এর অংশ হওয়ার মাধ্যমে আকিজ বশির গ্রুপ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে এবং নিজেদের কার্যক্রমে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের ৪০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আরই১০০-এর সদস্য। এসব প্রতিষ্ঠান ২০৫০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রমে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির তথ্য জানায় এবং আরই১০০-এর কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য যাচাই করা হয়।
এর পাশাপাশি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ, নীতিবিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সর্বোত্তম কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
আরই১০০ আকিজ বশির গ্রুপের নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে আরও পরিকল্পিত, পরিমাপযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে পরিমাপ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বাড়াতে এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের আস্থা আরও জোরদার করতে পারবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্প্রসারণে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
আরই১০০-তে যোগ দেওয়ার এ পদক্ষেপ আকিজ বশির গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে চলমান নবায়নযোগ্য শক্তি ও এ খাতে বিনিয়োগের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেবে। গ্রুপটির পার্টিকেল বোর্ড, সিরামিকস, গ্লাসসহ বিভিন্ন উৎপাদনকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৯০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে গ্রুপটি ধারাবাহিকভাবে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।
ত্রিশালে অবস্থিত আকিজ সিরামিকসে স্থাপিত ২৪.৩৯ মেগাওয়াট পিকের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ২৮,০৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ২২,৪৪০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটির ১০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জে অবস্থিত আকিজ বশির গ্লাসে ১৮.২ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার সঙ্গে রয়েছে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সুবিধা। এর ফলে দিনের আলো না থাকলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং লোডশেডিংয়ের প্রভাব কমানো সম্ভব হচ্ছে। কারখানাটিতে সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ‘ওয়েস্ট হিট রিকভারি’ প্রযুক্তিনির্ভর স্টিম টারবাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কারখানাটির মোট শক্তি ব্যবহারের ৭১ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে।
একই সঙ্গে গ্লাস উৎপাদনের সময় তৈরি হওয়া বর্জ্য তাপ পুনরুদ্ধার করে তা থেকে বাষ্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে শক্তিনির্ভর এ উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
আকিজ বশির গ্রুপের বিভিন্ন উৎপাদনকেন্দ্রে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। জনতা জুট মিলসে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা মিলটির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করছে। এছাড়া ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে দিনের আলো শেষ হওয়ার পরও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আকিজ পার্টিকেল বোর্ড মিলসে স্থাপন করা হয়েছে ৮.১ মেগাওয়াট পিকের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এটি বছরে প্রায় ৯.৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং প্রতিবছর প্রায় ৭৪৫২ টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারে বৃহত্তর পরিসরে আকিজ বশির গ্রুপের বিনিয়োগের ফলে এসব উদ্যোগ ত্বরান্বিত হচ্ছে। গ্রুপটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর সঙ্গে একাধিক নবায়নযোগ্য শক্তি ও শক্তি দক্ষতাবিষয়ক প্রকল্পে কাজ করেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন উৎপাদনকেন্দ্রে বর্জ্য তাপ পুনরুদ্ধার, পানির পুনর্ব্যবহার, নেট মিটারিং এবং আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে গ্রুপটি।
আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আকিজ বশির গ্রুপের জন্য আরই১০০-তে যোগদান শুধু নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের একটি প্রতিশ্রুতি নয়। আমাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার যে পদ্ধতি, তা রূপান্তরের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিতে পেরে আমরা গর্বিত। ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্যে এটি আমাদের একটি অগ্রণী পদক্ষেপ।
আমরা বিশ্বাস করি, ব্যবসার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে প্রবৃদ্ধি ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে। এ প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আরও পরিবেশবান্ধব ও মজবুত শক্তি ব্যবস্থার রূপান্তরে অবদান রাখতে চাই। একই সঙ্গে আমরা অন্যান্য ব্যবসা ও শিল্পখাতকে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করতে চাই। সম্মিলিতভাবে আমরা ব্যবসা, জনসাধারণ এবং বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারি।
আকিজ বশির গ্রুপ শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই ও নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর করে তুলতে এর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এর মূলনীতি ‘Beyond Tomorrow’ অনুসারে দায়িত্বশীল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।