Advertisement

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়।

Advertisement

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক (অব.)। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ডিন, চেয়ারম্যান, শিক্ষক, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে শিক্ষার্থীদের সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়সংগত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ইমাম হাসান জুয়েল, কাউছার আহমেদ রিফাত, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আসাদুজ্জামান আসাদ, ইমাম মেহেদী হাসান, শাহিন আহম্মেদ, ফারদিন আহম্মেদ, সাজেদুর রহমান সৌমিক ও মেহেরান বুখারী বক্তব্য দেন। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শ্রেবন্তী এবং আইন বিভাগের প্রভাষক মো. রাজিউল আলিম বক্তব্য দেন।

বক্তারা আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, সহযোদ্ধাদের সাহস ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব শুধু একটি আন্দোলন নয়, এটি বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণমানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।