logo
Advertisement

বাংলাদেশে নতুন ড্রোন ইতিহাস গড়ল ইউআইইউ

Asia Post Desk
বাংলাদেশে নতুন ড্রোন ইতিহাস গড়ল ইউআইইউ
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এরিয়াল রোবোটিক্স টিম। ছবি: ইউআইইউ

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এরিয়াল রোবোটিকস টিম (ইউএআরটি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই ইউআইইউর ইউএআরটির এ অসাধারণ অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।

চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেরা দলগুলো অংশগ্রহণ করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও পরিচালন সক্ষমতার সফল প্রয়োগের মাধ্যমে ইউআইইউর ইউএআরটি বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।

এসইউএএস প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ইউআইইউর এরিয়াল রোবোটিকস টিম (ইউএআরটি) প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি দল হিসেবে পডিয়ামে স্থান করে নিয়েছে।

২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এসইউএএস প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায় এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল ফ্লাইট পরিচালনা করে।

প্রতিযোগিতার দিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত চ্যালেঞ্জের ফলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশের শিকার হয়। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইউআইইউর ইউএআরটি তাৎক্ষণিকভাবে কৌশলগত পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় করে সফলভাবে নিজেদের মিশন সম্পন্ন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।

প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। এসব শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউআইইউর ইউএআরটি চতুর্থ স্থান অর্জন করে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

এবারের প্রতিযোগিতায় ইউএআরটি সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর অর্জন করে। পাশাপাশি, একমাত্র দল হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্ব অর্জন করে।

ইউএআরটির এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, প্রকৌশল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ধারাবাহিক পরিমার্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তুর শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও এড়িয়ে চলা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা। এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগই প্রতিকূল পরিবেশে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করতে দলটিকে সক্ষম করে তোলে।

ইউআইইউর ইউএআরটির এই অর্জন প্রমাণ করে যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ফ্যাকাল্টি নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বিত প্রয়াসে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে পারে। একই সঙ্গে এ অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করবে।