জাতিসংঘের সামনে বৈরী আবহাওয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও জাতিসংঘ-এর সদর দফতরের সামনে বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিউ ইয়র্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। টানা ৩৫ বছর ধরে চলমান এই আয়োজনে সর্বকনিষ্ঠ শিশুর শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিত কণ্ঠে ভাষা দিবসের গান পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এবং নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬-এর আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘের সামনে একুশ উদযাপন ও বইমেলা আয়োজনের গুরুত্ব এবং প্রবাসী জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশ সোসাইটি-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ব্রঙ্কস সোসাইটি-এর জহির উদ্দীন এবং বিজয় সাহা।
জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছর ধরে একুশ উদযাপন উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন। তাঁর শুভেচ্ছা ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর একুশের গৌরব, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকারের প্রতীক।’ বার্তাটি আয়োজক সংগঠনের পক্ষে কমিউনিটি ওয়ার্কার ছাখাওয়াত আলী পাঠ করেন।
মোহাম্মদ শাহীন হোসেনের পরিচালনায় একুশের তিনটি গান নিয়ে একটি বিশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙালি’ এবং ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে পাওয়া নয়’—গানগুলো সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয়। তবলায় ছিলেন হারাধন কর্মকার। ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ গানটি গিটার বাজিয়ে পরিবেশন করেন কাব্য। ‘একুশ আগুনরঙা পাখি’ কবিতা আবৃত্তি করেন ভাষা সাহা।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নতুন প্রজন্মের ধীরাজ, কৃতি ও শ্যামার উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন টাইমস স্কয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা, ব্রঙ্কস সোসাইটি, জন জে কলেজ বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, আবাহনী ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এছাড়া নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের সারা রওশন এবং কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট শক্তি দাস গুপ্তসহ অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।