স্কুল ফিডিংয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেটে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে ডিম ও বনরুটি খেতে দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে শুরু করে এবং বেশ কয়েকজন শিশু ঢলে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—চতুর্থ শ্রেণির মাহমুদা (১২), বিউটি (১২), শারমিন (১০), সুমাইয়া (১০), সাইন (১২) ও মাহফুজ (১০); তৃতীয় শ্রেণির তায়েবা খাতুন (১১) ও শারিহা আক্তার শান্তি (১০) এবং পঞ্চম শ্রেণির জয়নব জারিফ (১২)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হোসেন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসাধীন শিশুদের কারো পেটে ব্যথা আবার কারো মৃদু শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও বর্তমানে তাদের অবস্থা শঙ্কাযুক্ত নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গাক’-এর মাধ্যমে স্থানীয় ‘নিশান কনফেকশনারী’র তৈরি করা বনরুটি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হতো। রোববার শিক্ষার্থীদের দেওয়া রুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও ব্যবহারের মেয়াদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেগুলো গত ৩ ও ৫ সেপ্টেম্বরের—অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ। নষ্ট ও বাসি খাবার সরবরাহের কারণেই শিশুরা খাদ্য বিষক্রিয়ায় (ফুড পয়জনিং) আক্রান্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।
এ বিষয়ে সরবরাহকারী সংস্থা ‘গাক’-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। একটি সরকারি স্কুলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পৌঁছানোর কথা নয়, পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিশান কনফেকশনারী’র স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা রুটির দায় এড়িয়ে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পাউরুটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিশান কনফেকশনারী’র স্বত্বাধীকারি মাসুদ রানা বলেন, আমাদের পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়েছে কি-না ডিমে থেকে হয়েছে, এটা প্রতিষ্ঠান প্রধান বলতে পারবে। বিষয়গুলো তদন্ত করা দরকার।



