কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং ওয়ালটনের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি

বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড ওয়ালটন। স্থানীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি বিক্রয় ও মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট সেলস ও মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর তানভীর আঞ্জুম।
প্রশ্ন: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক্স খাতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থান ধরে রাখতে কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
তানভীর আঞ্জুম: ওয়ালটনের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার পেছনে কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করছে। ওয়ালটনের কর্পোরেট সেলস মাত্র তিন বছরে ১’শ কোটি টাকা থেকে ৬’শ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের চাহিদা বিশ্লেষণ, বাজার গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিজনেস সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বিক্রয় ও ব্র্যান্ড ভ্যালু দুটিই একসঙ্গে শক্তিশালী করতে পারছি। সরকারি, বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ওয়ালটনের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কর্পোরেট সেলস একটি কৌশলগত ভূমিকা রাখছে।
প্রশ্ন: বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ও মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কর্পোরেট সেলসের অবদান কীভাবে কাজ করে?
তানভীর আঞ্জুম: কর্পোরেট সেলস মূলত বৃহৎ পরিসরের অর্ডার ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সঠিক মূল্য নির্ধারণ, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। কর্পোরেট গ্রাহকদের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি হলে পুনরায় অর্ডার ও রেফারেন্স বিজনেস বাড়ে, যা প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রশ্ন: কর্পোরেট মার্কেটিং ওয়ালটনের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করতে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
তানভীর আঞ্জুম: কর্পোরেট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ওয়ালটনকে একটি নির্ভরযোগ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কর্পোরেট প্রেজেন্টেশন, টেন্ডার কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক ইভেন্ট ও কাস্টমাইজড সল্যুশনের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের আস্থা অর্জন করা হয়। এতে ওয়ালটনের ব্র্যান্ড ইমেজ আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
প্রশ্ন: ইলেকট্রনিক্স খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে?
তানভীর আঞ্জুম: প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে গ্রাহকের প্রয়োজন দ্রুত অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্পোরেট সেলস টিম নিয়মিত বাজার বিশ্লেষণ, প্রতিযোগী মূল্যায়ন এবং গ্রাহক ফিডব্যাকের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করে। পাশাপাশি ওয়ালটনের শক্তিশালী আফটার-সেলস সার্ভিস ও দেশব্যাপী সার্ভিস নেটওয়ার্ক আমাদের বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়।
প্রশ্ন: কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিংয়ে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে কী কী গুণাবলি প্রয়োজন?
তানভীর আঞ্জুম: একজন দক্ষ কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং পেশাজীবী হতে হলে যোগাযোগ দক্ষতা, নেগোসিয়েশন স্কিল, প্রেজেন্টেশন ক্ষমতা এবং বাজার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয়। পাশাপাশি ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট, টিমওয়ার্ক, পেশাদার আচরণ এবং পণ্যের গভীর জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় একজন কর্মীকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করে তোলে।
প্রশ্ন: তরুণদের জন্য যারা কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, আপনার পরামর্শ কী?
তানভীর আঞ্জুম: তরুণদের উচিত নিজেদের যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা, বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং শেখার মানসিকতা বজায় রাখা। কর্পোরেট সেলস একটি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র হলেও এখানে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ রয়েছে। ধৈর্য, সততা ও পেশাদারিত্ব থাকলে এই খাতে সফল হওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অগ্রযাত্রায় কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিংয়ের ভূমিকা কীভাবে দেখছেন?
তানভীর আঞ্জুম: আগামী দিনে কর্পোরেট সেলস ও মার্কেটিং ওয়ালটনের নতুন বাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সেগমেন্ট এবং আইটি ও স্মার্ট পণ্যের বাজার বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গ্রাহককেন্দ্রিক ও উদ্ভাবনী কৌশলের মাধ্যমে ওয়ালটন তার শীর্ষ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আমি আশাবাদী।