logo

গবেষণায় সফলতার জন্য স্বর্ণপদক ও পদোন্নতি অগ্রাধিকার পাবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

গবেষণায় সফলতার জন্য স্বর্ণপদক ও পদোন্নতি অগ্রাধিকার পাবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

গবেষণা কার্যক্রমে নতুন উদ্ভাবন ও সফলতা অর্জনকারীদের স্বর্ণপদকসহ পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ও সরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই গবেষণাকে। আর এই গবেষণা করে যারাই সফলতা অর্জন করবে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সার্বিক বিবেচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের গবেষণার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ আয়োজিত ‘বিএলআরআই-এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ ও মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী-কর্মকর্তাদের সাথে আলাপচারিতাকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা বলেন।

এসময়ম মন্ত্রী মহোদয় আরও বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কৃষকদের ফসল উৎপাদন বাড়াতে ভূ-উপরস্থ পানি ব্যবহারের জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সর্বপ্রথম কৃষিঋণ মওকুফ করেছিল। আর বর্তমান তারেক রহমানের সরকার তিন মাসেই কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফসহ কৃষকের স্বার্থে জন্য কাজ করা শুরু করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, কৃষক, কৃষি উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। হাওরের কোন বাঁধ ভেঙে গেছে সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী রাত ১২টায় ফোন দিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। কৃষকের ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে এসব খবরও রাখছেন তিনি। সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

কৃষক অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাল কার্পেট নয় আপনাদের গবেষণা আমাকে আনন্দিত করবে। আমাদের দেশে ১২ মাস ফসল ফলানোর পরও আমরা কেন গরীব? এজন্য আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের থেকে শাক-সবজি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির করতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আমরা সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে উৎপাদন করবো।

মন্ত্রী আরও বলেন, অধিক পরিমাণ কীটনাশক, সার ব্যবহারের কারণে আমাদের মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে।

ইনস্টিটিউটে গবেষণায় বরাদ্দ কম থাকা বিষয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গবেষণায় বরাদ্দ দিতে আমার কৃপণতা নেই বরং আরো উদার। আমাদের হাজার হাজার হেক্টর জমি পড়ে আছে। সেখানে ঘাস চাষে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের আইল্যান্ড পড়ে আছে এখানে ঘাস চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। গবেষণায় যারা ভালো করবে তাদেরকে স্বর্ণপদকসহ নানাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আগামীতে গবেষণা কাজে বাজেট বাড়ানো হবে। আমরা গবেষণায় অর্থায়নে কৃপনতা করবো না।

তিনি বলেন, আফ্রিকানসহ বিভিন্ন দেশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল চাচ্ছে। সত্যিকারের ব্ল্যাক বেঙ্গলের মাংসের দাম বেশি। এটি আমাদের নিজস্ব প্রজাতি। আপনারা এটির উন্নয়ন করুন। মুন্সিগঞ্জের মীর কাদিম হারিয়ে যাচ্ছে এটা নিয়ে কাজ করছেন এটি ভালো দিক।

পশুখাদ্য নিয়ে তিনি বলেন, দেশে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। সেই ভুট্টার গাছকে মহিষের খাবার হিসেবে প্রস্তুতে ব্যবস্থা নিতে হবে। যে বিজ্ঞানী কাজটি করতে পারবে তাকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেব।

দেশি মুরগির জাত নিয়ে বলেন, এ আবহাওয়ার সঙ্গে দেশি মুরগির জাত উন্নত করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করুন। এটির মাংস ও ডিমের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

আমিন উর রশিদ আরও বলেন, কাউকে ক্ষতি না করে পৃথিবীকে উপভোগ করতে হবে। এ সরকার সমস্যা সমাধান করার প্রতিজ্ঞাকারী সরকার। এজন্যই জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আপনাদের সমস্যা সমাধান করবো।

তিনি আরও বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীদিনের জন্য ভালো কিছু রেখে যাবো এটাই হোক প্রতিজ্ঞা।

মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ এবং বিএলআরআই এর বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান/দপ্তর প্রধান, প্রকল্প পরিচালকসহ সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সাংসদ ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আপনারা স্বাধীনভাবে কাজ করুন। জাতীয়ভাবে আপনাদের গবেষণার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি বিএলআরআই এর জন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

পাশাপাশি সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে সচিব জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ এবং নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করার জন্য কিছুটা সময় দরকার হবে। অন্যান্য বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. শাকিলা ফারুক বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কৃষিরই অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন জাত দরকার। ভ্যাক্সিন দরকার। গ্রিন হাউস গ্যাস কীভাবে হ্রাস করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

দেশীয় জাত পালনের সুফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেশীয় জাতগুলোর পরিচর্যা করি না। অথচ এখানে সঠিক পরিবেশ দেওয়ায় আরো উন্নত হচ্ছে। দেশি মুরগি ৫৬ দিনে খাবার উপযোগী হচ্ছে, ডিমের উৎপাদন বছরে ৫০টি থেকে ৩০০ টি ডিমে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি গরুর দুধ উৎপাদন বাড়ছে। রোগ-বালাই আগের তুলনায় অনেক কম হচ্ছে। এসময় দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে পোল্ট্রি গবেষণা ইনস্টিটিউট করার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে (চতুর্থ তলা) মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জিল্লুর রহমান। এছাড়াও সভায় ইনস্টিটিউটের পরিচিতি, সক্ষমতা, অবকাঠামোসহ চলমান গবেষণা কার্যক্রমসমূহ এবং বিএলআরআই-এর সাফল্য ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিবেশনা উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং দপ্তর প্রধান ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

এর আগে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কর্মসূচি সমাপ্ত করে বেলা ১২.০০ ঘটিকায় তিনি বিএলআরআই পরিদর্শন করেন। এসময় মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এবং মাননীয় সাংসদ বিএলআরআই এ পৌঁছে একটি করে নিম গাছের চারা রোপণ করেন।

পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা শেষ করে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও অন্যান্য অতিথিগণ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের পরির্দশনের মধ্যে ছিলো দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল গবেষণা খামার, মহিষ গবেষণা খামার, বিএলআরআই ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক এবং ট্রান্সবাউন্ডারি এ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার ল্যাবরেটরি।