logo

এশিয়ায় সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নিতে যাত্রা শুরু করল সাচিন

এশিয়ায় সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নিতে যাত্রা শুরু করল সাচিন
সাচিনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ায় সার্কুলার ইকোনমিকে (বৃত্তাকার অর্থনীতি) এগিয়ে নিতে ঢাকায় যাত্রা শুরু করল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (সাচিন)।

শুক্রবার (১৫ মে) তেজগাঁওয়ে বিসিআই কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে সাচিনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, সংস্থাটির লক্ষ্য গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণী সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়াজুড়ে টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। আজ আমরা শুধু একটি সংস্থার সূচনা করছি না; আমরা নতুন চিন্তা, নতুনযাত্রা এবং নতুন দায়িত্ব শুরু করছি।

‘থিংক সার্কুলার, ইনোভেট রিজিওনালি, ইমপ্যাক্ট গ্লোবালি’ সাচিনের স্লোগান বলে জানান প্রীতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে এমন এক এশিয়া গড়ে তোলার স্বপ্ন, যা সার্কুলার ইকোনমি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।

তিনি জানান, সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট, স্বাস্থ্যসেবা, প্লাস্টিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আর্থিক পরিসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, জাহাজ নির্মাণসহ আরও বিস্তৃত শিল্প খাতে কাজ করবে।

এশিয়া যে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ ও জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করছে, সেগুলোর ওপর আলোকপাত করে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃতি থেকে সম্পদ গ্রহণ, পণ্য তৈরি, ব্যবহার এবং ফেলে দেওয়া এই অর্থনৈতিক মডেলটি আর টেকসই নয়।

তিনি এমন এক বৃত্তাকার অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যেখানে সম্পদ দক্ষতার সঙ্গে পুনর্ব্যবহার করা হবে, বর্জ্য কমানো হবে এবং শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশগত টেকসই ও জনস্বাস্থ্য গভীরভাবে পরস্পর সংযুক্ত। তিনি বলেন, পানি দূষিত হলে মানুষ অসুস্থ হয়। বাতাস দূষিত হলে শিশু ও বয়ষ্করা কষ্ট পায়। টেকসই উন্নয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়; এটি অপরিহার্য।

সাচিন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি চারটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে। সেগুলো হলো, গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতিগত পরামর্শ ও সহায়তা, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংস্থাটি এশিয়ান সাসটেইনেবিলিটি ডেটা অ্যান্ড এআই পোর্টাল, সার্কুলার টেক অ্যান্ড ইনোভেশন মার্কেটপ্লেস, সাচিন একাডেমি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন, সার্কুলার সলিউশনস ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, এশিয়ান সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড ক্লাইমেট সামিটসহ বেশ কিছু ভবিষ্যৎ উদ্যোগেরও ঘোষণা দিয়েছে।

সাচিন আরও জানিয়েছে, তাদের কাজ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে এসডিজি ১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন), এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) এবং এসডিজি ১৭ (লক্ষ্য অর্জনের অংশীদারিত্ব)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি এশিয়ার জন্য একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সার্কুলার ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার, শিল্প খাত, উন্নয়ন অংশীদার, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, যুবসমাজ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের সার্কুলার ইকোনমি, বেসরকারি খাত ও পরিবেশ বিষয়ক অ্যাটাশে-প্রোগ্রাম ম্যানেজার হুবার্ট ব্লম এবং ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারপারসন মিজ নুরিয়া লোপেজ, সাচিনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট শিয়াবুর রহমান শিহাব, মহাসচিব শাফায়াত হোসেন, যুগ্ম সচিব শেখ মো. রিজভী নেওয়াজ, কোষাধ্যক্ষ স্থপতি মো. নাজমুছ ছাকিব এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রোজানা আক্তার ও মাহফুজুর রহমান।