কুষ্টিয়ার ‘পীর’ হত্যায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত পরিবারের

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা ও কথিত পীর আবদুর রহমান শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার রাতে পারিবারিক বৈঠকে মামলা না করার সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করতে বলা হলেও বাস্তবতার কারণে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিবার মামলা করবে না—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে কথা বলতে পরিবারের সদস্যদের থানায় আসার কথা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৪ মিনিটের একটি ভিডিও থেকে নির্দিষ্ট অংশ কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছিল। কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে পুরোনো ভিডিও প্রচার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রথম দফার হামলায় ৭০ থেকে ৮০ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিও ছিলেন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে পরিবার মামলা না করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। হামলায় তার তিন অনুসারীও আহত হন।
.png)

