logo

দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রেহাই পায়নি তিন বছরের শিশু সাদিয়াও

দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রেহাই পায়নি তিন বছরের শিশু সাদিয়াও

রাতের খাবার শেষ করে বাবা, মা আর ভাই পারভেজের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তিন বছরের শিশু সাদিয়া রহমান। কে জানত, রাতের সেই ঘুমই হবে তাদের জীবনের শেষ ঘুম। ঘুমের মধ্যেই সাদিয়ার সঙ্গে তার ভাই, বাবা ও মাকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সকালে তাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আতকে ওঠেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি খাতুন (২৫), ছেলে পারভেজ ইসলাম (৯) ও শিশুকন্যা সাদিয়া রহমান (৩)।

​নিহত হাবিবুরের বাবা নমির হোসেন বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, রাতের খাবার খেয়ে সবাই তো একসঙ্গে ঘুমাতে গেল। কিন্তু সকালে গিয়ে দেখি সব শেষ। সাদিয়ার মতো এইটুকু শিশুকেও ওরা ছাড়ল না। ​

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে প্রতিবেশীরা হাবিবুরের বাড়ির দরজা খোলা দেখে ভেতরে প্রবেশ করেন। বিছানার ওপর চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, জমিজমাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার নিরপরাধ মেয়ে, জামাই আর নিষ্পাপ নাতি-নাতনিদের যারা এভাবে জবাই করল, আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার দেখতে চাই। আমি এই খুনিদের ফাঁসি চাই।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

​ওসি বলেন, আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে আমাদের টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্তের পর এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।