লাল কালিতে লেখা চিরকুটে বিএনপির চার নেতাকে হত্যার হুমকি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় উড়ো চিরকুট পাঠিয়ে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির চারজন নেতা হত্যার হুমকির খবর পাওয়া গেছে। চিরকুটে চার নেতার নামের নিচে লাল কালিতে লেখা রয়েছে—‘হত্যা করা হবে, সময় ১৫ দিন।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়কালী বাজারে দলীয় কার্যালয় পরিষ্কার করার সময় একটি খামের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় চিরকুটটি পাওয়া যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন দলীয় কর্মী মোজাম্মেল হক মোজাম। তিনি একটি খাম দেখতে পান। খাম খুলে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
চিরকুটে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম.ইউ. আহমেদ মোশারফ, ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হেলাল হোসেন এবং কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, চিরকুটে আমারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। লাল কালি ব্যবহারের বিষয়টিও আমাদের কাছে উদ্বেগের। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে কেউ ক্ষুব্ধ বা ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.ইউ. আহমেদ মোশারফ বলেন, এ ধরনের হুমকির ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান বুলু বলেন, কার্যালয় পরিষ্কার করার সময় মোজাম্মেল হক চিরকুটটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি আমাদের জানানো হয়। পুলিশ এসে চিরকুটটি নিয়ে গেছে। এটি সত্যিকারের হুমকি, নাকি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয় দেখাতে এমন চিরকুট রেখেছে—তদন্তে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিরকুটটি জব্দ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় নজরদারিও রাখা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিরকুটটি লেখক বা এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
