logo

ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে, প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ

ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে, প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ
সাতক্ষীরায় প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ বাল্য বিয়ে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের বাল্যবিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক সংরক্ষিত ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে গোপনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের হাতবাস গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর বয়সি ওই কনে হাতবাস গ্রামের মোড়লপাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, বরের বয়স ১৭ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের যোগসাজশে এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য রেশমা বেগমের সহযোগিতায় গত ১৫ অক্টোবর খুলনায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের কথিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

শনিবার ছেলের বাড়িতে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান ও ভোজের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এসময় বাল্যবিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযান বাধাগ্রস্ত করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করতে ইউপি সদস্য রেশমা বেগম বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। তবে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হওয়ায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে বাল্যবিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করা হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার সকাল ১০টায় দুই পরিবারকে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক এসএম জামান, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবুর রহমান, জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, রিইবের হোপ প্রকল্পের সিএসও প্রতিনিধি সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান এবং জাতপুর ক্যাম্প পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অচিন্ত্য সাহা ও তালা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নজরদারি কার্যকর হওয়া আশাব্যঞ্জক। তবে অবৈধ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সঙ্গে জড়িত একটি অসাধু চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে, যা শিশু সুরক্ষা ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি।

তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্কুলগামী কিশোরীদের ঝরে পড়া রোধে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।