logo

আগেই খবর পেয়ে সরে যায় ইয়াসিন বাহিনী

আগেই খবর পেয়ে সরে যায় ইয়াসিন বাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল ইয়াসিন বাহিনীর কাছে। ফলে সলিমপুরের ভেতর একটি খালে থাকা কালভার্ট ভেঙে দেয় তারা। এ ছাড়া পথে তৈরি করে রাখে নানা প্রতিবন্ধকতা। আর অভিযানের খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা আগেই এলাকা ছাড়েন। ফলে এখন পর্যন্ত আটক ১৫ জনের মধ্যে আলোচিত কোনো সন্ত্রাসী নেই।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাতেই খবর পেয়ে এলাকা ছাড়েন সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির নানা ব্যবস্থাও করা হয়।

অভিযানে গিয়ে যৌথবাহিনী দেখতে পায়, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে। তুলে ফেলা হয়েছে নালার স্ল্যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে এসব করা হয়েছে।

সোমবার ভোর ৪টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল পুলিশ লাইন্স থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সিএমপির ৮০০ এবং রেঞ্জ পুলিশের ৭০০ সদস্যের পাশাপাশি যৌথবাহিনীতে যুক্ত রয়েছেন র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। ধাপে ধাপে মোট তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযানে যুক্ত হন। ভোর হওয়ার আগেই পুরো এলাকার সব প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও র‍্যাবের পৃথক দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বে বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩১০০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি অপরাধীদের কাছে ‘নিরাপদ স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসতি গড়েছেন। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ হিসেবেও পরিচিত।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় র‍্যাব। সে সময় সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে, সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ওই হামলায় র‍্যাব-৭ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। সে ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের দমনে এমন একটি বড় আকারের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সরকার।