রামেবির কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করলেন কর্মকর্তারা

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও সরঞ্জামের সিজার তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই রাশেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় মামলার বাদী ও রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাজমুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেজিস্ট্রার ডা. মোফাক্ষারুল ইসলাম, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. শাহ আলম, কলেজ ইন্সপেক্টর শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা লাকী এবং সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্যালয়ের দরজায় থাকা তালা ভেঙে কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন কক্ষ ও সেখানে থাকা মালামাল ও সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এসব সামগ্রীর বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করে সিজার তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
পরে জানা যায়, রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকও তার দপ্তরে গিয়ে বসেন ও দাপ্তরিক কাজ করেন। উপাচার্য তার দপ্তরে প্রবেশের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়।
এর আগে গত (৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের কার্যালয়ে একদল লোক রাজশাহী আপামর জনতা ব্যানারে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. নাজমুল হোসাইনকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা এবং তাকে মারধরের অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা দেওয়া, সিসিটিভির সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে কর্মকর্তারা জানান।
এ ঘটনায় (৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার রাতে রামপাড়া থানায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হোসাইন।
পুলিশের জানায়, মামলায় জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল লুট এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগের পরদিন গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) রামেবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজশাহীর চিকিৎসকেরা পৃথক মানববন্ধন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
