সাগরে ভেসে যাওয়া ফুটবল আনতে গিয়ে ছাত্রের মৃত্যু

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে যাওয়া ফুটবল আনতে গিয়ে সাগরে ডুবে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাগরে ডুবে যাওয়া আরও দুই তরুণকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মধ্যবর্তী গ্রিন নেচার রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে লাইফগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
নিহত কলেজছাত্রের নাম সীমান্ত। তিনি কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এলাকায়।
সৈকতে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, সীমান্তসহ কয়েকজন বন্ধু গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তারা ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা গ্রিন নেচার রিসোর্টসংলগ্ন সৈকতে ফুটবল খেলছিলেন। একপর্যায়ে ফুটবলটি সাগরে ভেসে যায়। সেটি আনতে সীমান্তসহ তিন বন্ধু পানিতে নামেন। পরে স্রোতের টানে তারা ভেসে যান।
এ সময় অন্যরা দুজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে সীমান্ত পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে বিচকর্মী, লাইফগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে সীমান্তকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাহবুব আলম আরও বলেন, সন্ধ্যার পর পর্যটকদের সাগরে নামা নিষেধ। এ সময় লাইফগার্ড কর্মীরা তাদের দায়িত্ব শেষ করে চলে যান। বিচকর্মীরা মাইকিং করে পর্যটকদের সাগর থেকে উঠে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন। তবে অনেক পর্যটক সেই নির্দেশনা মানেন না।

