র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি ছিনতাই, ৪ ঘণ্টা পর আবারও গ্রেপ্তার

খুলনার দাকোপে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর ও হামলা করে দুই আসামি ছিনতাইয়ের চার ঘণ্টা পর আবারও পুলিশ হেফাজতে তারা। উপজেলা বিএনপি ওই দুই আসামিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টায় মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে র্যাব। পরে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতৃত্বে র্যাবের গাড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাই করা হয়। এর চার ঘণ্টার মাথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছিনতাই হওয়া দুই আসামিকে আবারও র্যাবের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে কয়েক বছর ধরে আব্দুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার মাছ চাষ করছে। সম্প্রতি খোনা এলাকার মুকুন্দ মন্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজী গংদের সঙ্গে তাদের মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় বাচ্চু গংদের ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে গত ২১ মে মামলা দায়ের করে। আকরাম আলী ফকিরের ছেলে আব্দুল্লাহ ফকির গংদের দাবি, তারা গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরার সময়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খোনা এলাকার প্রতিপক্ষের বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ঘেরে হামলা চালায়। হামলায় আব্দুল্লাহ গংদের ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
আহতরা হলেন পানখালী এলাকার জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার (৫৪)।
পরবর্তীতে আজ বেলা ১১টার দিকে বাচ্চু ফকিরের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় খুলনা র্যাব-৬ এর সদস্যরা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময়ে চালনা আচঁভুয়া বাজার এলাকায় র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং স্থানীয়রা র্যাবের গাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর করে আটক আসামি ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফর হোসেন ও সদস্য সচিব আলামিন সানার নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে তারা বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভূমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত ও সরকারি ওই জমি জোর করে দখলে নিয়ে আব্দুল্লাহ ফকির ও রাশেদ কামালের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বিরোধ চলছিল। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি। আমরা জানতে পারি একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু খুলনা থেকে র্যাব এসে ওই মিছিল থেকে লোক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তারা বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।
এ ঘটনার পরপর বিকেল ৫টার দিকে বিপুল পরিমাণ র্যাব ও পুলিশ সদস্য দাকোপে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করলে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করে
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল বাসার বলেন, দুপুরে মব সৃষ্টি করে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেলে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।