বগুড়া/পঞ্চম শ্রেণিতেও ইংরেজি পড়তে পারে না ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী

বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বড় একটি অংশের শিক্ষার্থী এখনো বাংলা ও ইংরেজি পড়তে এবং সাধারণ গণিতের হিসাব করতে পারছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। গণিতে পিছিয়ে রয়েছে ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর বাংলা রিডিংয়ে দুর্বল ২৪ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭৬ হাজার ১৫৯ শিক্ষার্থীকে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে।
মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির ৩৯ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পেরেছে ২৩ হাজার ৬৮৩ জন। অর্থাৎ, ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলা রিডিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে আছে। একই শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব সমাধান করতে পারেনি।
শুধু পঞ্চম শ্রেণিতেই নয়, নিচের শ্রেণিগুলোতেও শিখন ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট। তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ হাজার ৩২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ শতাংশ সাধারণ গণিতে দুর্বল। বাংলা রিডিংয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর। চতুর্থ শ্রেণিতে গণিতে দুর্বল ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ধুনট ও সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক।
ধুনট উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। সারিয়াকান্দিতে তৃতীয় শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব করতে পারে না। চতুর্থ শ্রেণিতে ইংরেজি পড়ায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীর হার সেখানে ৪৩ শতাংশ।
তবে একই ধরনের ভৌগোলিক বাস্তবতা থাকা সোনাতলা উপজেলায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। সেখানে বিভিন্ন সূচকে শিক্ষার্থীদের সফলতার হার ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
চরাঞ্চলের বাইরে শেরপুর উপজেলাতেও কিছু ক্ষেত্রে শিখন ঘাটতির হার বেশি। সেখানে তৃতীয় শ্রেণির ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, মূল্যায়নের মাধ্যমে কোন এলাকার কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে পিছিয়ে আছে, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি পূরণে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে গত জুন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছয় মাসের একটি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে এর কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে কর্মসূচির চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।


