নড়াইলে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা

কুয়াশার মোড়ক কাটিয়ে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান রোপণের কাজ চলছে পুরোদমে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপটে চাষাবাদে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে প্রায় ২০ দিন আগে আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর নড়াইলের আকাশে রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন মিষ্টি-মধুর শীতের আমেজ পেয়ে কৃষকেরা পুরোদমে বোরো ধান রোপণে নেমেছেন।
নড়াইল সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম শেখ জানান, তিনি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করছেন। বর্তমানে ধানের চারা বা ‘পাতো’ (স্থানীয় ভাষায় চারা) কোনো সংকট নেই। একই গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, তিনি তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। শুরুতে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন আবহাওয়া ও পরিবেশ খুব ভালো। সার, কীটনাশক ও সেচ নিয়েও কোনো সমস্যা নেই।
৭৫ বছর বয়সী কৃষক বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর কাজ চলছে। কৃষক মোহাম্মদ মোরাদ জানান, আগের দিনে গরু দিয়ে জমি চাষ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগছে এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে।
সাগর শেখ বলেন, তিনি ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট জাতের ধান রোপণ করছেন। এ জাতের ফলন ও বাজারদর ভালো। ভাত খেতে সুস্বাদু এবং খড়ও ভালো পাওয়া যায়।
এদিকে কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থাপনায় তেমন কোনো সংকট নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ বোরো মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের মৌসুমগুলোতে ২০২৪-২৫ সালে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং ২০২৩-২৪ সালে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। ফলে তিন বছরের ব্যবধানে জেলায় ৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ আদর্শ বীজতলা। বীজতলা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় কোনো সংকট নেই।