logo

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের অন্তত ৩০-৪০ স্থাপনা পুড়ে গেছে। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শহরের এন আলম নামের পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। 

এদিকে উদ্ধারকর্মীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দগ্ধরা হলেন—চকরিয়ার সিকদার পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামুর জোয়ারিয়ানালার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলীর মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), আদশগ্রামের আবদু রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫), কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়ার কালামিয়‍ার ছেলে কামরুল হাসান (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)। 

জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ৯টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখন পর্যন্ত গ্যাস লিকেজ বন্ধ করা যায়নি। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাম্পের গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ করেই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় পাম্পের আশপাশে থাকা কয়েকটি জিপ গাড়িতেও আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য স্থানীয়রা গ্যাস পাম্প কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন।

সরজমিনে ‍গিয়ে দেখা যায়, পাম্প থেকে চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও আগুন লাগার পরপরই ঘটনাস্থলের আশপাশে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পরে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভিড় সামলাতে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। দুর্ঘটনা এড়াতে পাম্পের চারপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, বার্ন ইউনিট না থাকায় দগ্ধদের মধ্যে ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আবদুর রহিম ও আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি ও দুজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সরেজমিনে খোঁজ নিতে আসেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যাদের রেফার্ড করা হয়েছে তাদেরকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের সহকারী পরিচালক দোলন আশ্চর্য এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সার্ভিস ও সেনা ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।