এশিয়া পোস্টের সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হাসপাতালের সেই হিসাবরক্ষক বদলি

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. হাসানুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে। তাকে বরগুনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে হিসাবরক্ষক পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে এ বদলি করা হয়।
হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগের প্রায় দুই মাস পর তার বদলির আদেশ এল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে তার বদলির কারণ হিসেবে এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে কয়েকজন ভুক্তভোগী, সাবেক ও বর্তমান কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেন।
গত ১৫ জুন পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে যান এশিয়া পোস্টের পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম তনু এবং দৈনিক আজকের খবরের পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি দীপ রয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসানুজ্জামানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে দুজন আহত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত সামগ্রী আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একই সঙ্গে হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে আগে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় আসে।
মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে জড়ো হন কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তারা হাসানুজ্জামানের বদলির খবরে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।
মাসুম নামের এক ব্যক্তি বলেন, তিনি একসময় পটুয়াখালী হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তার দাবি, মিথ্যা অভিযোগে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে তার কক্ষ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে মামলায় জড়ানো হয়।
মাসুম বলেন, আমি এই হাসপাতালের একজন ভুক্তভোগী। আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আমার রুম থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আমাকে সন্দেহজনকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। অথচ ওই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, হাসানুজ্জামানের বদলির খবরে তাদের মতো ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
.png)


