logo

চুয়েটের আন্দোলন এবার এলো শহরে

চুয়েটের আন্দোলন এবার এলো শহরে
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৬ দিন ক্যাম্পাসে শাট ডাউন কর্মসূচি পালন করে সাড়া না পাওয়া চুয়েটের আন্দোলন শহরমুখী হলো।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম নগরে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’, ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ।

লিখিত বক্তব্যে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাচ্ছে, তাই কোনো বিশেষ সুবিধা না চেয়ে চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালের পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের জন্য আমরা সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো আমাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে এসে আমাদের দাবি তুলে ধরতে হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান সংকটের সমাধান করবে এবং স্যারকে পুনর্বহাল করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এখনো দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় চুয়েটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।