উজানের ঢলে আখাউড়ায় ডুবেছে ২৫০ হেক্টর ধানি জমি, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রায় ২৫০ হেক্টর আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে পানি বেড়ে যাওয়ায় আখাউড়া স্থলবন্দরসংলগ্ন কালন্দি খালে পানি প্রবেশ করে কয়েকটি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত থেকে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে। এতে আখাউড়া সদর, দক্ষিণ ও মোগড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি পানির নিচে চলে যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে আখাউড়ায় মোট ৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এসব জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যেই ঢলের পানিতে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা এশিয়া পোস্টকে জানান, বর্তমানে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ধানের চারার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
এদিকে পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকাতেও। কালন্দি খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্দরসংলগ্ন কয়েকটি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত এশিয়া পোস্টকে জানান, বর্তমানে হাওড়া নদীর পানি বাংলাদেশ অংশে বিপৎসীমার প্রায় তিন ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে এবং উজান থেকে আরও ঢল নামলে আখাউড়ার নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



