logo

বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ডিজেল, ভাড়া না বাড়ায় বিপাকে মাঝিরা 

বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ডিজেল, ভাড়া না বাড়ায় বিপাকে মাঝিরা 

জ্বালানি সংকটের কারণে বেশি দামে ডিজেল কিনেও ভাড়া বাড়াতে না পারায় সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝিরা বিপাকে পড়েছেন। এতে অনেক মাঝি নৌকা চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা, যাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। 

সরেজমিনে বিভিন্ন নৌঘাটে দেখা গেছে, নদীর তীরে সারি সারি নৌকা নোঙর করে বসে আছেন মাঝিরা। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে গত কয়েক দিনে নৌকা চলাচল কমে গেছে। অনেক মাঝি অতিরিক্ত দামে তেল কিনেও ভাড়া না বাড়াতে পেরে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।

সিরাজগঞ্জ শহরের পুরাতন জেলখানা ঘাটের মাঝি দেলোয়ার জানান, আগে যেখানে স্বাভাবিক দামে ডিজেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু ভাড়া না বাড়ায় খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমাদের অনেকেই আর নৌকা চালাতে পারছে না। সরকার যদি আগের দামে অন্তত সীমিত পরিমাণ তেলের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম।

কাজিপুর উপজেলার তেকানী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। জ্বালানি সংকটের কারণে নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। আগে প্রতি ঘণ্টায় নৌকা পাওয়া যেত, এখন অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।

তেকানী ঘাটের মাঝি বেল্লাল হোসেন জানান, একবার যাতায়াতে এখন ২৩-২৪ লিটার ডিজেল লাগে। আগে প্রতি লিটার ১০২-১০৩ টাকায় তেল কিনলেও এখন ১২৫-১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতি ট্রিপে খরচ বেড়ে তিন হাজার টাকার বেশি হচ্ছে। অনেক সময় খরচই ওঠে না, বলেন তিনি। তেকানী ঘাট থেকে চলাচল করা প্রায় ৭২টি নৌকার মধ্যে অনেকগুলোই এখন বন্ধ।

চৌহালী উপজেলার যাত্রীদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও শিক্ষার্থী নৌপথে যাতায়াত করেন। নৌকা কমে যাওয়ায় তাদের যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এনায়েতপুর ঘাটের মাঝি সাগর বলেন, বেশি দামে তেল কিনতে হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাচ্ছে না। ৫-১০ টাকা বাড়াতে চাইলে যাত্রীরা রাজি হন না। লোকসান হলেও নৌকা চালাতে হচ্ছে।

এনায়েতপুর ঘাটের ইজারাদার ইউসুফ আলী বলেন, সরকারিভাবে তেলের দাম না বাড়লেও সরবরাহ সমস্যার কারণে মাঝিরা বেশি দামে তেল কিনছেন। তিনি মাঝিদের জন্য কার্ডভিত্তিক তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে তেলের দাম বাড়েনি এবং বাঘাবাড়ি বন্দর থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।