উচ্চারণের সমস্যা জয় করে মিমিক্রিতে তাক লাগালেন আয়েশা

কার্টুনের বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠস্বর হুবহু অনুকরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আয়েশা আক্তার জেরিন। ‘ডোরেমন’ ও ‘মীনা’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন হিন্দি কার্টুন চরিত্রের কণ্ঠ অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলছেন তিনি।
আয়েশা মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা মো. আমির হোসেনের বড় মেয়ে। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জের একটি নার্সিং কলেজে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। কণ্ঠের এই জাদুকরী ক্ষমতার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে পরিচিতি পেয়েছেন জেরিন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই জেরিনের উচ্চারণে কিছুটা জড়তা ছিল। কীভাবে এই জড়তা কাটিয়ে ওঠা যায়—তা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই ২০২৪ সাল থেকে তিনি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের অভিনয় ও সংলাপ শুনে তা অনুকরণের চেষ্টা শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই চেষ্টাই তার বিশেষ প্রতিভায় রূপ নেয়। বর্তমানে জেরিন ডোরেমন, মীনাসহ বিভিন্ন হিন্দি কার্টুনের প্রায় ৩০টি চরিত্রের কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে মিমিক্রি করতে পারেন। নিজের এই প্রতিভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে এবং চারদিক থেকে প্রশংসা কুড়াতে থাকে।
আয়েশার বাবা মো. আমির হোসেন বলেন, আমার দুই মেয়ের মধ্যে জেরিন বড়। ছোটবেলা থেকেই তার উচ্চারণে কিছু সমস্যা থাকলেও কার্টুন দেখার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল। বড় হওয়ার পর দেখি সে কার্টুনের বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠ ও সংলাপ অবিকল অনুকরণ করতে পারছে। মেয়ের এই প্রতিভায় বাবা হিসেবে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। ভালো কোনো মিডিয়া হাউসে ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলে আয়েশা আরও ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।
মাটিরাঙ্গার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল হাশেম বলেন, আয়েশার কণ্ঠ অনুকরণের দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের কণ্ঠ এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা সহজ নয়। তার এই প্রতিভা আমাদের মাটিরাঙ্গার জন্যও গর্বের।
আরেক এলাকাবাসী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মেয়েটি পড়াশোনায় বেশ ভালো। মানিকগঞ্জে নার্সিং পড়ার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকেও সে টিকিয়ে রেখেছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে জেরিন জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবে।
নিজের প্রতিভা প্রসঙ্গে আয়েশা আক্তার জেরিন বলেন, প্রথমে আমার কিছু কিছু শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হতো, সহপাঠীদের সাথে কথা বলতে গিয়েও দ্বিধায় পড়তাম। তাই নিজের পরিবর্তন আনার চিন্তা থেকেই ২০২৪ সালের দিকে কার্টুনের বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠ অনুকরণ করতে শুরু করি। সেই ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে বিষয়টি রপ্ত করে ফেলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ ভিডিও দেখে প্রশংসা করায় আরও ভালো করার উৎসাহ পাচ্ছি। ভবিষ্যতে নার্সিং পেশার পাশাপাশি বড় কোনো মিডিয়া হাউসে ভয়েস আর্টিস্ট বা সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করতে চাই।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, এ ধরনের প্রতিভাবানদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি আয়েশা যেভাবে কার্টুনের কণ্ঠ মিমিক্রি করে নিজের ভিন্নধর্মী প্রতিভা ফুটিয়ে তুলেছে, তা বিকশিত করার সুযোগ পাওয়া উচিত। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার এমন প্রতিভাবান ও মেধাবীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।



